শাহবাজের বক্তব্যের জবাবে জাতিসংঘে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের জবাব দিয়েছে ভারত। ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতের প্রথম সচিব পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন শাহবাজ শরিফ। প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে তিনি ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সংগত ও ন্যায্য সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এর জবাবে ভারতীয় কূটনীতিক পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে তিনি ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানে অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। গেহলট বলেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি একাডেমির কাছেই বসবাস করছিলেন।

গেহলট আরও বলেন, পাকিস্তান একদিকে নিরাপত্তার কথা বলে, অন্যদিকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের দিক থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি হবে এবং ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।

ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, গত বছরও তারা দেখিয়েছে সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় বা লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে ভারত তার জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনার কথা জানিয়েছিল ভারত। এর আগে ২২ এপ্রিল পাহালগামে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পরই ভারতীয় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকার কথা তিনি একাধিকবার উল্লেখ করলেও নয়াদিল্লি তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালের মতো সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে আবার তৈরি না হয়, সে জন্য কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সংগত ও ন্যায্য সমাধান প্রয়োজন। এর জবাবে গেহলট জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে রাওয়ালকোটের মানুষের কাছে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে বলেন।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়েও পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন গেহলট। একই সঙ্গে দেশটির রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

ধর্মীয় সহনশীলতার বিষয়ে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত। গেহলট পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননাবিরোধী আইন এবং দেশটির সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এ ছাড়া শাহবাজ শরিফ তার বক্তব্যে সিন্ধু পানি চুক্তির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। ভারত এর আগে পাহালগাম হামলার পর চুক্তিটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদসহ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *