শিল্পবর্জ্য থেকে চক, ম্যাড স্টারসে ডিবিএল সিরামিকসের ‘টাইলচক’-এর বড় জয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেকটি সাফল্য বয়ে এনেছে ডিবিএল সিরামিকসের টেকসই উদ্যোগ ‘টাইলচক’। ম্যাড স্টারস ২০২৬-এর ‘এসডিজি’ ক্যাটাগরিতে গ্র্যান্ড প্রিক্স জিতেছে উদ্যোগটি। পাশাপাশি পিআর এবং ব্র্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন ক্যাটাগরিতে দুটি ‘ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে ‘টাইলচক’।

ডিবিএল সিরামিকসের উদ্যোগে তৈরি ‘টাইলচক’-এ সিরামিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি বর্জ্য বা কাদা ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের চক তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পকারখানার বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পাশাপাশি বর্জ্য কমানো এবং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ম্যাড স্টারসের তিনটি স্বীকৃতি ‘টাইলচক’-এর আন্তর্জাতিক অর্জনের তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে উদ্যোগটি অ্যাডফেস্ট, দ্য ওয়ান শো, অ্যাডফোরাম ফিনিক্স অ্যাওয়ার্ডস ও স্পাইকস এশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, টেকসই উন্নয়নের ধারণা শুধু কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সিরামিক উৎপাদনের বর্জ্যকে ব্যবহার করে লেখার চক তৈরি করে ‘টাইলচক’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বিকল্প ধারণা তুলে ধরেছে।

চক তৈরির এই পদ্ধতি ‘ওপেন সোর্স’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারাও শিল্পবর্জ্যকে নতুনভাবে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

‘টাইলচক’-এর এই অর্জন প্রসঙ্গে ডিবিএল সিরামিকসের চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ বায়েজিদ বাশার বলেন, ‘টাইলচক’ যেসব স্বীকৃতি পেয়েছে, তার প্রতিটির জন্য তারা কৃতজ্ঞ। ম্যাড স্টারসের এই স্বীকৃতিও তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি বলেন, এসব স্বীকৃতি সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা, থেমে থাকার কারণ নয়। বর্জ্য কমানো এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

বায়েজিদ বাশার আরও বলেন, ‘টাইলচক’ দেখিয়েছে, নিজেদের শিল্পের ভেতরের চ্যালেঞ্জগুলোকে ভিন্নভাবে দেখলে নতুন সমাধান বের করা সম্ভব। ভবিষ্যতে উদ্ভাবন অব্যাহত রাখা, নতুন কিছু শেখা এবং আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য।

ডিবিএল সিরামিকস ও পপ ফাইভের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘টাইলচক’-এর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত একটি সমাধান কীভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল উৎপাদন ও উদ্ভাবনের প্রতি ডিবিএল সিরামিকসের প্রতিশ্রুতিকেও এটি আরও জোরালো করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *