শ্রীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নামজারি, খাজনা দাখিলা, ভূমি রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অফিসে সেবা নিতে আসা অনেকেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।
এদিকে, শ্রীপুর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত এক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘ প্রায় আট বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ সময়ের মধ্যে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সেবা প্রক্রিয়ায় রাকিব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার মাধ্যমে কাজ দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলির আদেশ হলেও আর্থিক প্রভাব ব্যবহার করে একই স্থানে থেকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, খাজনার দাখিলা কাটতে সরকারি ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি ফি ১১৭০ টাকার বিপরীতে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে “কাগজ ঠিক নেই”, “সার্ভেয়ার অনুপস্থিত” কিংবা “অনলাইন সমস্যা” ইত্যাদি অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে তারা দাবি করেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার সব কাগজ ঠিক থাকা সত্ত্বেও তিন মাস ধরে ঘুরছি। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। প্রতিবারই নতুন অজুহাত দেয়।”
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে অফিসের আশপাশে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা সেবাগ্রহীতাদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এবং বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়—যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।