চুনতি রেঞ্জে বনভূমি দখলের অভিযোগ: রেঞ্জার আবিদের নীরবতায় দালান নির্মাণে ‘নীরব মহোৎসব’

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি রেঞ্জ এলাকায় বন বিভাগের জায়গা দখল করে দালান, দোকানপাট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রেঞ্জার আবিদের নীরবতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদ বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুনতি ইউনিয়নের ইসহাক মিয়া সড়কের দুই পাশজুড়ে চলছে দখলের এক নীরব মহোৎসব। বন বিভাগের আওতাধীন জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ফাঁকা দালান, দোকানপাট এবং বসতঘর। কোথাও পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে, আবার কোথাও পাহাড়ি ছড়া ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড় বড় পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং ডাম্পার ট্রাক দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল (পিএফ) ও রিজার্ভ এলাকার অংশও দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব দখলদারদের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রচ্ছায়া। তাদের দাবি, রেঞ্জার আবিদের মাধ্যমে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ পৌঁছানো হয়, যার ফলে প্রকাশ্যে দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে ভরাট ও দখল কার্যক্রম চললেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে সাংবাদিক পরিবারের বিভাগীয় কমিটির মহাসচিব কামরুল ইসলাম বন ও পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জার আবিদ বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। বন্যপ্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারাবে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়া ও জলাধার ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *