আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য “শান্তির ভবিষ্যৎ গড়া।” সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সাথে একই সুরে কণ্ঠ মিলিয়ে বাংলাদেশেও আজ পালিত হলো এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিবসটি।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল ও প্রতিবাদমুখর মানববন্ধন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতারা এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অপরিহার্যতা বিশেষভাবে উঠে আসে। বক্তাদের তেজোদীপ্ত ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ।
■ মহাসচিব আলমগীর গনির সভাপতিত্বে উত্তাল মানববন্ধন:
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব আলমগীর গনি। তিনি গণমাধ্যমের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন,
“গণমাধ্যম শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম মূল ভিত্তি। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে নির্ভীক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা।”
■ নীতি নির্ধারণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন:
নীতি নির্ধারণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল হোসেন বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন,
“১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত ঐতিহাসিক ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ ৩ মে-কে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই মহান চেতনা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নয় বরং সত্য প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা।”
■ নির্বাহী সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন:
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নির্বাহী সভাপতি শাহজাহান মোল্লা সাংবাদিকদের উপর চলমান নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
“বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ, হয়রানি ও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কখনোই পূর্ণতা পাবে না।”
■ নীতি নির্ধারণী পরিষদের সদস্য সচিব মনজুর হোসেন বলেন:
নীতি নির্ধারণী পরিষদের সদস্য সচিব মনজুর হোসেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“একটি সুস্থ সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের শুধু স্বাধীনতা পেলেই চলবে না, সেই স্বাধীনতার যথাযথ ও সুচিন্তিত ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতার সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সংবাদ পরিবেশনই একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তুলতে পারে।”
■ সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন:
সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জনগণের সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,
“গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর। তাই এই কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। গণমাধ্যমকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করতে হলে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
■ সাংগঠনিক সচিব মেহেদী হাসান বলেন,
সাংগঠনিক সচিব মেহেদী হাসান ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন,
“বর্তমানে ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে, তেমনি ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের ভয়াবহ ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সত্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে।”
■ প্রচার ও প্রকাশনা সচিব এম হোসাইন আহমদ বলেন,
প্রচার ও প্রকাশনা সচিব এম হোসাইন আহমদ গণমাধ্যমের নৈতিকতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন,
“গণমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সাংবাদিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পেশাগত নৈতিকতা সর্বদা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নিশ্চিত করতে হবে যেন সাংবাদিকরা সকল ভয়ভীতি ও চাপমুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।”
■ ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন,
ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের সততা ও নিষ্ঠার উপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন,
“গণমাধ্যম সমাজের সবচেয়ে স্বচ্ছ আয়না হিসেবে কাজ করে। এই আয়নাকে সবসময় পরিষ্কার ও নিখুঁত রাখতে হলে সাংবাদিকদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। আমাদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ পরিবেশন নয় বরং প্রতিটি পরিস্থিতিতে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।”
■ ঢাকা জেলা দক্ষিণ সভাপতি এস এম মহসিন উদ্দিন বলেন,
ঢাকা জেলা দক্ষিণ সভাপতি এস এম মহসিন উদ্দিন সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার দৃঢ় আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজের সকল মহলের সম্মিলিত ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন। গণমাধ্যমকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করতে হলে সর্বাগ্রে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
■ সম্মিলিত ঘোষণা, সত্যের পথ থেকে পিছু হটার প্রশ্নই নেই:
মানববন্ধনে সকল বক্তা একযোগে দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন — একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম সম্পূর্ণ অপরিহার্য। গণমাধ্যম সত্য তুলে ধরে, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
■ ঐতিহাসিক সমাপ্তি, নতুন অঙ্গীকারে উজ্জীবিত সাংবাদিক সমাজ:
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে একটি দৃঢ় ও ঐতিহাসিক বার্তা তুলে ধরা হয় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার এই আয়োজন বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের তাৎপর্যকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সম্মিলিত অঙ্গীকারের গুরুত্ব আবারও জাতির সামনে তুলে ধরেছে।
উত্তাল করতালি আর “জয় হোক স্বাধীন গণমাধ্যমের” স্লোগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই অবিস্মরণীয় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা।
লেখক:
মোঃ আনজার শাহ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, স্বাধীন সংবাদ
সহ-দফতর সচিব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ
যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি।
সকল সাংবাদিকের আস্থা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।
০৩ মে ২০২৬