সত্যের মশাল জ্বালিয়ে বরুড়া থেকে ঢাকায়, মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাবে বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা

মোঃ আনজার শাহ:

গত ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য “শান্তির ভবিষ্যৎ গড়া।” সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও গত ৩ মে পালিত হলো এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে গত ৩ মে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়।

কুমিল্লার বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল সুদূর বরুড়া থেকে বুকে সত্যের মশাল জ্বালিয়ে ছুটে এসেছেন রাজধানী ঢাকায়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা গত ৩ মে উচ্চকণ্ঠে জানিয়ে দিলেন— তৃণমূলের সাংবাদিকরাও সত্যের লড়াইয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে তাঁদের এই দৃঢ় সংহতি ও অকুণ্ঠ সমর্থন উপস্থিত সকলের মধ্যে তৈরি করে এক অভূতপূর্ব আবেগ ও উদ্দীপনার ঢেউ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিক এম এ হোসেন সাজু, দেশ রূপান্তরের বরুড়া প্রতিনিধি ও বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার, গাজী টিভির প্রতিনিধি মোঃ আরাফাত হোসেন এবং স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনজার শাহ।

■ সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিক এম এ হোসেন সাজু বলেন,

সচিবালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিটে দীর্ঘদিন ধরে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা সাংবাদিক এম এ হোসেন সাজু আজকের এই বিশেষ দিনে অত্যন্ত আবেগময় ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ পেশা নয় — এটি একটি মহান দায়িত্ব, একটি পবিত্র অঙ্গীকার। আমরা যখন সচিবালয়ের করিডোরে হাঁটি, তখন আমাদের কাঁধে থাকে কোটি মানুষের প্রত্যাশার ভার। তারা চায় তাদের কথা রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাক, তাদের সমস্যার কথা সরকার জানুক। আমরা সেই সেতুবন্ধনের কাজ করি। তাই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মানে শুধু আমাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নয়— এটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর পাওয়ার অধিকার।”

তিনি দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে আরও বলেন, “আজকের এই বিশেষ দিনে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে দেশের প্রকৃত উন্নয়নের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে, দুর্নীতির মুখোশ খুলে দিতে এবং নীতিনির্ধারকদের সঠিক পথে রাখতে। সাংবাদিকতা বেঁচে থাকলে গণতন্ত্র বেঁচে থাকে। গণতন্ত্র বেঁচে থাকলে দেশ এগিয়ে যায়। এটাই হলো আজকের দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।”

■ গাজী টিভির বরুড়া প্রতিনিধি মোঃ আরাফাত হোসেন বলেন,

গাজী টিভির প্রতিনিধি মোঃ আরাফাত হোসেন আজকের দিনটিকে প্রতিটি সাংবাদিকের জন্য নতুন করে শপথ নেওয়ার এবং নিজেদের দায়িত্ব গভীরভাবে স্মরণ করার সেরা সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,

“৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতি বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আমরা কেন এই পেশায় এসেছি, কেন প্রতিদিন মাঠে নামি, কেন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খবরের পেছনে ছুটি। আমরা এসেছি মানুষের পাশে থাকতে, সত্যকে আলোয় আনতে। একজন টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, ক্যামেরার লেন্সের মধ্য দিয়ে যখন সত্যিকারের মানুষের গল্প উঠে আসে, তখন সেটি শুধু একটি প্রতিবেদন থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে ইতিহাসের এক অমর দলিল।”

আশাবাদী ও প্রত্যয়ী কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী হবে, আরও স্বাধীন হবে, আরও দায়িত্বশীল হবে। কারণ এই দেশের সাংবাদিকরা অদম্য ও সাহসী। তারা যত বাধাই আসুক না কেন, সত্যের পথ থেকে কখনো সরে যায় না। এই অদম্য মনোবলই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”

■ বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার বলেন,

দেশ রূপান্তরের বরুড়া প্রতিনিধি ও বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার প্রেসক্লাব ও তৃণমূলের সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা আবেগের সাথে তুলে ধরে গর্বিত কণ্ঠে বলেন,

“বরুড়া থানা প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের ঐক্য, সংহতি ও সাহসের এক জীবন্ত প্রতীক। আমাদের ক্লাবের প্রতিটি সদস্য নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা কুমিল্লার বরুড়া অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা সারা দেশের সামনে নিরলসভাবে তুলে ধরছেন।”

তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে আরও বলেন, “আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একত্রিত হয়েছি এই সুস্পষ্ট বার্তা দিতে যে তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকরাও এই দেশের গণমাধ্যমের মেরুদণ্ড। আমরা ঢাকার বাইরে থেকেও সমান সাহস, সমান দায়িত্ব ও সমান নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করি। বরুড়া থানা প্রেসক্লাব সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে।”

■ স্বাধীন সংবাদের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনজার শাহ বলেন,

স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-দফতর সচিব এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আনজার শাহ আজকের সমাবেশে সবচেয়ে তেজোদীপ্ত, সাহসী ও হৃদয়গ্রাহী বক্তব্যটি রেখে উপস্থিত সকলকে আলোড়িত করেন।

তিনি দৃপ্ত ও উজ্জীবিত কণ্ঠে বলেন, “৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আমাদের কাছে শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের স্মারক, আমাদের সংগ্রামের প্রতীক। এই দিনটি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, কেন আমরা কলম ধরেছি, কেন আমরা প্রতিদিন মাঠে নামি, কেন আমরা রাত জেগে সংবাদ লিখি। আমরা লিখি কারণ এই দেশের কোটি মানুষ সত্য জানার অধিকার রাখে।”

তিনি আবেগময় ও প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে আরও বলেন, “যেখানে মুক্ত সংবাদমাধ্যম নেই, সেখানে প্রকৃত শান্তিও নেই, প্রকৃত গণতন্ত্রও নেই। একজন সাংবাদিক যখন কলম হাতে তোলেন, তখন তিনি শুধু একটি সংবাদ লেখেন না, তিনি হয়ে ওঠেন কোটি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। সেই কলম কেউ কোনোদিন থামাতে পারবে না। আমরা থামব না, ক্লান্ত হব না, ভয় পাব না— সত্যের পথে আমাদের এই যাত্রা চিরকাল অব্যাহত থাকবে। সত্যের মশাল আমরা জ্বালিয়ে রাখব, যতদিন এই দেশ আছে, ততদিন।”

■ মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য:

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতি বছর ৩ মে জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা বিশ্বে পালিত হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এই দিনটি মূলত সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য পালিত হয়।

বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা-হামলা ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন দেশের অসংখ্য সাংবাদিক। এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আজ বরুড়ার সাংবাদিকদের এই সাহসী উপস্থিতি প্রমাণ করল— সত্যের লড়াই থেমে নেই, থামবেও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *