মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৬ নম্বর চিতড্ডা ইউনিয়ন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলের চারা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টি এবং শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সম্প্রতি আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চারা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুকুন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা এবং শৈশব থেকেই খেলাধুলার সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক এমন কার্যক্রম শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধনও দৃঢ় করতে পারে।
একটি চারাগাছ সময়ের পরিক্রমায় মহীরুহ হয়ে ছায়া, ফল ও নির্মল পরিবেশের জোগান দেয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ফলের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ করতে সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য জনপদ গড়ে তোলার পথও প্রশস্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
শিশুদের হাতে খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের অবসরকে আনন্দময় করার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও দলগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে। শৈশবের নির্মল খেলাধুলা শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
আয়োজকরা বলেন, খেলাধুলার সুযোগ শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না; এটি শিশু-কিশোরদের মানসিক দৃঢ়তা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং বরুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিরুল ইসলামসহ চিতড্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, পরিবেশ ও শিশুদের বিকাশকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে একটি পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও প্রাণবন্ত বরুড়া গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবুজ প্রকৃতি, মানসম্মত শিক্ষা ও সুস্থ প্রজন্ম এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে আগামীর সমৃদ্ধ সমাজ।