নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বিআরটিসির বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে সেগুলো সাধারণ যাত্রীদের পরিবহনে ব্যবহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এ রিট পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন আইন, ২০২০’-এর ৫ ও ২২ ধারা অনুযায়ী বিআরটিসির বাস জনস্বার্থে সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এই বিধান উপেক্ষা করে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বিআরটিসির বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, ‘বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা-২০০৭’-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীরাই বাস ইজারা নিতে পারবেন। একই নীতিমালার ৫(১৭) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইজারা নেওয়া বাস তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ। আবেদনকারীর দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিসির বাস ইজারা দেওয়া হলে তা ওই নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
রিটে আরও দাবি করা হয়েছে, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত বিআরটিসির বাস সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হলে নাগরিকদের সমান অধিকার ও আইনের আশ্রয়-সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।
আবেদনকারীর আইনগত যুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নিলে রাষ্ট্রীয় অর্থ এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। এতে অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য বহুমুখী প্রভাব সীমিত হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি যাতায়াতের জন্য বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত গতি আসতে পারে বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, বিপুলসংখ্যক বিআরটিসি বাস সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিক্ষার্থীদের গণপরিবহন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এতে প্রতিদিন তাদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে আবেদনকারীর দাবি।
রিট পিটিশনে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমানে সরকারি যাতায়াতে ব্যবহৃত বিআরটিসির বাসগুলো প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।