সাংবাদিকতাকে ব্ল্যাকমেইলিং সংস্কৃতিমুক্ত রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

মোঃআনজার শাহ

সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে যারা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের দিকে নিয়ে যেতে চায় এবং যারা এই পেশাকে ফ্যাসিবাদের দালালে পরিণত করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।

সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক দক্ষতা, যোগ্যতা ও জ্ঞান নিয়ে অনেকেই সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত আছেন। তবে তাঁদের মধ্য থেকেই কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে অধিকার সাংবাদিকতা পেশার রয়েছে, সেই অধিকার ও দায়িত্বকে সুরক্ষা দেওয়াই ফাউন্ডেশনের মূল কাজ হওয়া উচিত।

সংবাদমাধ্যমে নতুন ইকোসিস্টেম গড়ার উদ্যোগ:
মন্ত্রী জানান, তথ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশের সাংবাদিকতা জগতে একটি সুষ্ঠু নতুন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। শুধু প্রিন্ট মিডিয়া নয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত সর্বত্র একটি আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য:
বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে সম্পাদক ও পত্রিকা মালিকরা বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেছেন এই বলে যে, বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে গণমাধ্যম এর আগে কখনো এত স্বাধীনতা ভোগ করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক এবং কিছু ‘পরগাছা’ পত্রিকায় ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি যেন গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। সাংবাদিকতার নামে কোথায় কী অপকর্ম চলছে, তা নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে দীর্ঘজীবী করা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেন এই লক্ষ্য অর্জনের সূচনাবিন্দু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *