কে. এম. তৈয়ব আলী-হীরা:
সাংবাদিকতা একটি মহান ও সম্মানজনক পেশা। সংবাদপত্র জাতির দর্পণ এবং সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে সমাজের নানা অসঙ্গতি, অনিয়ম ও মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পেজ পরিচালনা, মাইক্রোফোন ও বিভিন্ন লোগো ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি শ্রেণির ব্যক্তি নিজস্ব ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় ঘটনা নিয়ে লেখালেখি করে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ মাইক্রোফোনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও স্টিকার ব্যবহার করছেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকরা পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদ পরিবেশন করেন।
সংবাদ বা ‘নিউজ’ বলতে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—চতুর্দিকের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও যাচাইযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনকে বোঝানো হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি, গণমাধ্যমের লোগো ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি অসাধু চক্র অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ইউনিয়ন, থানা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র এবং প্রশিক্ষণের কথা বলে অর্থ আদায় করছে। এতে অনেকেই অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতার মতো দায়িত্বশীল পেশায় পরিচয়পত্র, লোগো কিংবা মাইক্রোফোন ব্যবহারই সাংবাদিকতার একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। পেশাগত সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয়।
তাদের প্রত্যাশা, সাংবাদিকতার নামে ভুয়া পরিচয়, অপসাংবাদিকতা ও পরিচয়পত্র বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।