আব্দুল আজিজ:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের আঘাতে মো. ইউনুছ প্রকাশ ফকির (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রবিচাঁন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. ইউনুছ একই এলাকার ফজল করিমের একমাত্র ছেলে। ঘটনার পর তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের মারধরের পরই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে একই এলাকার পেঠান ও মাহমুদ শফির মধ্যে বিরোধপূর্ণ একটি জায়গা পরিমাপের কাজ চলছিল। ওই জায়গার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিহত ইউনুছ ও নূর আহমদেরও বিরোধপূর্ণ জায়গা রয়েছে। এ কারণে জায়গা পরিমাপের সময় তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জায়গার সীমানা নির্ধারণের সময় পরিমাপের ফিতা বসানোকে কেন্দ্র করে ইউনুছ ও নূর আহমদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নূর আহমদ ইউনুছকে জোরে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর ইউনুছ বাড়িতে চলে যান। পরে তার স্ত্রী হাজেরা বেগম তাকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ইউনুছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউনুছের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত ইউনুছের ছোট ছেলে মো. জুবাইর তার বাবার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নূর আহমদ গং আমার বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। এ ছাড়াও প্রায় পাঁচ বছর আগেও তারা আমার বাবাকে মারধর করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। ওই মামলায় আমার বাবা প্রায় এক মাসের কাছাকাছি সময় কারাগারে ছিলেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ করা হলেও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার উত্তেজনা ও বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। ইউনুছের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কেউ দায়ী থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মো. ইউনুছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।