আব্দুল আজিজ আল মাক্কী:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে মো. রিয়াজ (২২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মায়ের করা হত্যা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
নিহত মো. রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা মোল্লাপাড়ার ড্রাইভার নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকায় রিয়াজকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত দুজনসহ মোট চারজনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—কামরুল হাসান, সাইমুন উদ্দিন শাকিল, মো. অনিক হাসান ও মো. ফরহাদ।
মামলার বিবরণ:
নিহতের মা রোজিনা আকতার থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজের কয়েকজন বন্ধু তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে স্থানীয় শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজের বলে দাবি করেন এক বন্ধু। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা কাঠের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
হামলায় রিয়াজের মাথা, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয় এবং বেশ কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে সড়কে এনে আবারও মারধর করেন। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে পালিয়ে যান তাঁরা।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের চাচা মো. জহির তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা আকতার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”