আব্দুল আজিজ আল মাক্কী:
আহত অন্তত ৩০ জন, চালকের চোখে ঘুম থাকায় দুর্ঘটনার ধারণা পুলিশের
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরে কক্সবাজারগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে এক প্রভাষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের উত্তর কেঁওচিয়া রেলক্রসিং-সংলগ্ন আবদুহাদী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির নম্বর কুমিল্লা-ব ১১-০০৬০।
নিহতরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং একই মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষিকার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৬)।
পুলিশ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে একটি বাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাটের উত্তর কেঁওচিয়া রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে অপর বাসের যাত্রী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে বাসটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে সামনের আসনে বসা এক শিক্ষিকা ও একজন অতিথি নিহত হন। পুকুরের পানিতে বাসের সামনের অংশ ডুবে থাকায় শ্বাস নিতে না পেরে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কেবিএম ইটভাটার সামনের পুকুরটি গভীর হওয়ায় বাসের ইঞ্জিন বক্সের কাছে থাকা দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার জানান, চালকের চোখে ঘুম ঘুম ভাব থাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।