সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ লাঘবে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগ: রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট

আব্দুর রশিদ:

সাতক্ষীরা পৌর এলাকার রইচপুর উত্তরপাড়া ব্রিজের দুই পাশের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সংগঠনের জেলা ও শহর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রইচপুর উত্তরপাড়া ব্রিজের সংযোগস্থলে রাস্তার পাশে সরকারি জমি না থাকা এবং জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে ব্রিজের দুই পাশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাটি তলিয়ে যায় এবং বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতা বিরাজ করে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। তাদের উৎপাদিত ধান ও মাছ বাজারে নেওয়ার সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হতো। জনগণের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব উদ্যোগে মাটি ভরাট করে চলাচলের পথ সুগম করার পদক্ষেপ নেয়।

উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত সেক্রেটারি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (সাতক্ষীরা ইউনিট) জেলা শাখার সেক্রেটারি ও সাতক্ষীরা পৌর মেয়র প্রার্থী, শহর আমির ও সাতক্ষীরা পৌর ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বকুল, সাতক্ষীরা শহর কর্মপরিষদ মাওলানা আমিনুর রহমান, সেক্রেটারি, ৭নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাওলানা আব্দুর রহিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ৭নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি হাফেজ মোঃ লিয়াকত আলী, এছাড়াও স্থানীয় যুব বিভাগের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মাটি ভরাট কার্যক্রম উদ্বোধনকালে অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, “রইচপুর উত্তরপাড়া ব্রিজের দুই পাশের বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে পারছিলেন না। জনগণের এই দুর্ভোগ দেখে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা সবসময় গণমানুষের কল্যাণে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরকারিভাবে দ্রুত সংস্কার কাজ হচ্ছে না। তারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জনগণের চলাচলের স্বার্থে এই ভোগান্তি নিরসনে যেন দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থায়ী সংস্কার না হলে এই জনপদে সারা বছরই যাতায়াতের সমস্যা থেকে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *