নারায়ণগঞ্জে পরিকল্পিত হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ: নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক গৃহবধূর বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার (৩৫) ন্যায়বিচারের আশায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল ফাহিমা আক্তারের পরিবারের। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ফাহিমা আক্তারকে লক্ষ্য করে মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয় এবং ধাক্কাধাক্কি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করে দেয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। লুটপাটের সময় বাধা দিতে গেলে ফাহিমা আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি পুনরায় হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি ঘিরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *