সাব-রেজিস্ট্রার বদলি নিয়ে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম এবং রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল, যার সঙ্গে মাইকেল মহিউদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইন মন্ত্রণালয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব কর্মকাণ্ডে মাইকেল মহিউদ্দিনের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হলেও তা নিশ্চিত করার মতো নথি প্রতিবেদকের হাতে নেই।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বদলির সংখ্যা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ ও হোটেলে বদলি নিয়ে দরকষাকষি হতো। এসব লেনদেনে মাইকেল মহিউদ্দিন সরাসরি মধ্যস্থতা করতেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে কথিত বৈঠক, অর্থ লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাইকেল মহিউদ্দিন তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর সঙ্গে একদল লোক চলাফেরা করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্যক্রম, সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্য এবং সরকারি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অতীতে সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গী ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

এ ছাড়া সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, তাঁর সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং আইন মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, বদলির আদেশ, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং তদন্তের ফলাফল যাচাই করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *