সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাকিম মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দলিল বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাকিম মজুমদার। স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অভিযোগকারীর দাবি, তিনি একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনো পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‘দুর্নীতির মূল হোতা’ হিসেবে অভিযোগ

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাকিম মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, তার আশপাশে একটি শক্তিশালী দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যারা সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে।

সূত্রের আরও দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতবদল হয়, যা “লাখ লাখ থেকে কোটি টাকার” পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অর্থের পরিমাণ বা উৎস সম্পর্কে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

জাকির নামের সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, জাকির নামের এক ব্যক্তি এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার সঙ্গে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি, কথিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীরাও জড়িত থাকতে পারেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অফিসে তথ্য সংগ্রহ বা অনুসন্ধান করতে গেলে অনেক সময় বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

সম্প্রতি ঢাকা থেকে একদল সাংবাদিক গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই সময় তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

অভিযোগকারীদের আরেকটি দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাকিম মজুমদার কুমিল্লা ও ঢাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন সামনে আসেনি।

সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাকিম মজুমদার বলেন, তিনি নিয়মিতভাবে অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা মারামারির ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একটি মানবাধিকার সংগঠনও ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং দলিল সম্পাদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *