নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করার পর এক যুবদল নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবদল নেতার নাম শেখ খোরশেদ আহমেদ ওরফে দোলন। তিনি রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা যুবদলের সদস্য। আহত অন্য তিনজন হলেন একই ইউনিয়নের উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্লা (৫০) ও বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৫০)। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলারশিপ পেতে ১২ থেকে ১৫টি করে আবেদন জমা পড়ে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার মনোনীত করা হয় এবং শুক্রবার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামনগর ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন খোরশেদ আহমেদ এবং একই ইউনিয়নের মান্নান মন্ডলের ছেলে শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মন্ডল (৩০)। তাঁদের মধ্যে শিবলী সাদিককে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এরপর গত রোববার নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিলারশিপ না পাওয়া কয়েকজন আবেদনকারী। সেখানে খোরশেদ আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবলী সাদিক টাকা দিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ঘটনার জেরেই তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ
খোরশেদের ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করেন, সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর ভাই বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন।
ফরিদ আহমেদের দাবি, হামলায় খোরশেদের মাথা ফেটে যায়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্য তিনজনকেও মারধর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁর ভাইকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে শিবলী সাদিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, সারের ডিলারশিপ নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদের জেরেই এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার প্রশাসনের
সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। নাম পাঠানোর পর ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের আর কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও জানান তিনি।
শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের ডিলার নিয়োগ দিতে হবে—এমন কোনো শর্ত নীতিমালায় নেই বলেও মন্তব্য করেন ইউএনও।
সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ নিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।