স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সালাউদ্দিন সরকার মার্কেটের সাবেক দারোয়ান মোঃ নুরু মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় চায়ের দোকান পরিচালনা করা এই ব্যক্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত নুরু মিয়া টঙ্গী এলাকার একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন। পরবর্তীতে তিনি সালাউদ্দিন মার্কেটে দারোয়ান হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে তিনি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা জানান, নুরু মিয়া এখন দুটি গাড়ির মালিক—একটি এক্স করোলা এবং একটি এক্সজিও মডেলের গাড়ি ব্যবহার করছেন। এসব গাড়ি নিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন নুরু মিয়া। সম্প্রতি ১ নম্বর ইউনিট এলাকায় একটি মাদক স্পট দখলকে কেন্দ্র করে তার সম্পৃক্ততায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।১ নং ইউনিটে নুরু মিয়ার সালোক পরিচয়দানকারী মইনুল এর গ্যাংস্টার দিয়ে এই স্পট চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবহেলিত থাকলেও, হঠাৎ করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের অভিযোগ, এসব তথাকথিত নেতা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “যদি একজননেতা নিজেই মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার অনুসারীরাও একই পথে হাঁটবে—এটাই স্বাভাবিক।” ফলে পুরো এলাকায় মাদক বিস্তারের জন্য এসব ব্যক্তিকেই দায়ী করছেন তারা।এ বিষয়ে মোহাম্মদ নূরু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি। এ বিষয়ে জানার জন্য টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসির মোবাইলে ফোন দিও পাওয়া যায়নি তাকে
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।