সিডনির ডে কেয়ারে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ কেলেঙ্কারি, কর্মীর বিরুদ্ধে ৩২৯ অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি ডে কেয়ার কেন্দ্রকে ঘিরে ভয়াবহ শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডে কেয়ারে কর্মরত হামিশ টেইট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের মোট ৩২৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১৩৬ জন শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামিশ টেইট ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিডনির ৬২টি প্রাথমিক শিশু শিক্ষা ও ডে কেয়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মূলত শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতেন। তদন্তে জানা গেছে, চারটি ডে কেয়ার কেন্দ্র এবং তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হয়েছে অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধের বেশিরভাগ ঘটনা।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬২টি শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী তৈরি, ৮১টি অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ, এবং শিশু যৌন নির্যাতনসহ মোট ৩২৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এতদিন আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের পরিচয় গোপন রাখা হলেও, সোমবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুদের শনাক্ত এবং তাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের স্বার্থেই আগে পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ পর্যন্ত ১২১টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও ২২ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লিউক নিডহ্যাম বলেন, “শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতনই অত্যন্ত মর্মান্তিক। আর যখন এমন অপরাধ একজন বিশ্বস্ত পরিচর্যাকারীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তখন তা সমাজের জন্য আরও গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।”

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে প্রথম হামিশ টেইটের অবৈধ অনলাইন কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সিডনির বাইরে গ্লোসোডিয়া এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। সেখান থেকেই শিশু নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ডে কেয়ার কেন্দ্রে শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

এর আগে অ্যাশলি পল গ্রিফিথ ২০২৪ সালে কুইন্সল্যান্ডসহ বিভিন্ন শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে দুই দশক ধরে সংঘটিত ৩০৭টি যৌন অপরাধের দায় স্বীকার করেন। একই বছর জোশুয়া ডেল ব্রাউন-এর বিরুদ্ধেও ডে কেয়ার কেন্দ্রের শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। সেই ঘটনায় ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের ১,২০০-এর বেশি শিশুকে যৌনরোগ পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছিল পুলিশ।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *