সিদ্ধিরগঞ্জে ফজলুল হক হত্যা মামলা: ষড়যন্ত্রমূলক নাম অন্তর্ভুক্তি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার তীব্র নিন্দা

​নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় বহুল আলোচিত ফজলুল হক হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার মূল অভিযুক্তদের বাইরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতা ডিএইচ বাবুল সুকৌশলে শামসুদ্দিন শেখের নাম এজহারে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে থানায় তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে হেনস্তা করে বের করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​ষড়যন্ত্র ও প্রলোভনের নেপথ্য কাহিনী
স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ফজলুল হক হত্যা মামলায় যে নির্দিষ্ট অভিযুক্তরা রয়েছেন, তাদের বাইরে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষে নিরপরাধ শামসুদ্দিন শেখকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা বিএনপি নেতা ডিএইচ বাবুল নিহত ফজলুল হকের মেয়ের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাকে নানা ধরনের আর্থিক প্রলোভন দেখান। এই প্রলোভনে ফেলে তার মাধ্যমে মামলার বাদীকে প্রভাবিত করা হয়। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শামসুদ্দিন শেখের নামও এজহারে জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তাকে ঘায়েল করা যায়।
​থানায় তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিক হেনস্তা
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের জন্য সম্প্রতি এক সাংবাদিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যান। থানার ভেতরে অবস্থানকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ডিএইচ বাবুল ওই সাংবাদিকের পেশাগত পরিচয় নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
​অভিযোগ রয়েছে, ডিএইচ বাবুল ওই সাংবাদিককে হুকুমের সুরে বলেন, “আপনি কিসের সাংবাদিক? আপনি এই রুম থেকে বের হয়ে যান।”
​এর পরপরই আরেক ব্যক্তি সেখানে এসে ওই সাংবাদিককে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ও যোগসাজশে পুলিশ সদস্যরা ওই সাংবাদিককে থানা কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীর সাথে এমন অশুভ আচরণ এবং পুলিশকে ব্যবহার করে বের করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।
​স্মারকলিপি প্রদান ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
এদিকে, শামসুদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ এসপি অফিস এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন। এ সময় তারা শামসুদ্দিনের নাম মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত ডিএইচ বাবুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেন।
​সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য
মামলার এজহারে শামসুদ্দিন শেখের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, বাদী মামলায় শামসুদ্দিন শেখের নাম উল্লেখ করে দিয়েছেন, তাই এক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিক করণীয় সীমিত।
​ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, “বাদী শামসুদ্দিন শেখের নাম এজহারে দিয়েছেন, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তবে পরবর্তীতে আমরা বিভিন্নভাবে পর্যালোচনা করে এবং নিবিড় যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে দেখব যে তিনি আসলেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আছেন কিনা।” পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে যদি শামসুদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা না মেলে, তবে আইনগত প্রক্রিয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​এদিকে, একটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কূটকৌশল, অর্থ বাণিজ্য এবং থানায় বসে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার নেপথ্য কারিগর ডিএইচ বাবুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল, ক্ষতিগ্রস্তরা ও সাংবাদিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *