স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর জেলা বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করেন। তবে বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ করায় এবং অনিয়মে সহযোগিতা না করায় পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস. এম. মাহফুজুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক মো. নাসিরুল আরিফিনসহ একাধিক কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারী এবং অন্যান্য সেবাগ্রহীতাদের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুপারিশকৃত কয়েকজন আবেদনকারী নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই অথবা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই লাইসেন্স পেতে আগ্রহী ছিলেন।
কিন্তু বিআরটিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা বা প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের অনুত্তীর্ণ (ফেইল) দেখানো হয়।
এরপর থেকেই অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সংবাদের অধিকাংশই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, গাজীপুর জেলা বিআরটিএ বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের সুযোগ না পেয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং আবেদনকারীর যোগ্যতা, পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রচলিত বিধিমালা অনুসারেই সেবা প্রদান করা হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না বলেও তারা জানান।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।