আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি, উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাদ দেওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার পরিশোধ করবে দেশটি। এছাড়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগের সুযোগও উন্মুক্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটে অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হবে। খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি নথিও পাঠানো হবে, যা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে।
তবে চুক্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সৌদি আরব চাইলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
এছাড়া চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ও রাখা হয়নি। সাধারণত এ প্রটোকলের আওতায় আইএইএ যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট দেশের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পায়। কিন্তু নতুন চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দ্বিপক্ষীয়ভাবে নির্ধারণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু বোমা তৈরির প্রধান দুটি ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করেই বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে। তাই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো শিথিল করে এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তা বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে