মোঃ আনজার শাহ:
কোটি মানুষের স্বপ্নের শহর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বাস্তবায়নে এবার সরকারের পক্ষ থেকে এলো কঠোর বার্তা—কাজে গাফিলতি নয়, মানের সঙ্গে আপস নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে প্রতিটি কাজ।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় এই দৃঢ় বার্তা দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।
টেবিলে যা উঠে এলো — সভার বিস্তারিত:
সভায় পূর্বাচল প্রকল্পের চলমান প্রতিটি কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল—
প্লট হস্তান্তর প্রক্রিয়া: বর্তমান অগ্রগতি ও গতি বৃদ্ধির কৌশল
সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা: নির্মাণকাজের সর্বশেষ অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ
সামাজিক অবকাঠামো: মসজিদ, হাসপাতাল ও বিদ্যালয় নির্মাণের অগ্রগতি
পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ: টেকসই ও সবুজ শহর গড়ার রোডম্যাপ
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন এবং প্রতিটি বিভাগের কাজের অগ্রগতি নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
সভায় দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিমন্ত্রী জনাব আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন,
“পূর্বাচল নতুন শহরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সম্পূর্ণরূপে বদ্ধপরিকর। কোটি মানুষের স্বপ্নের এই শহরে নাগরিকদের সকল আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না। দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে গাফিলতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম প্রকল্পের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, তদারকি কার্যক্রম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। মান অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজউক সর্বাত্মক শক্তি ও সম্পদ নিয়োজিত করেছে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান।
সভায় রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূর্বাচল প্রকল্পের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা অংশ নেন। তাঁরা প্রকল্পের কারিগরি জটিলতা, বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানের কার্যকর পথ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞদের এই মতবিনিময় প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বাচল নতুন শহর শুধু একটি প্রকল্পের নাম নয়, এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের বুকে লালন করা এক উজ্জ্বল স্বপ্নের নাম। রাজধানী ঢাকার যানজট, দূষণ ও জনাকীর্ণ জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে সবুজ, পরিষ্কার ও পরিকল্পিত একটি শহরে বসবাসের যে আকাঙ্ক্ষা, পূর্বাচলই তার একমাত্র উত্তর।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সক্রিয় তদারকি, প্রতিমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং রাজউকের নিরলস প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্নের শহর এখন আর দূরে নয়। পূর্বাচলের আলোকিত ভবিষ্যৎ দ্রুতই বাস্তবে রূপ নেবে—এটাই কোটি বাংলাদেশির মনের গভীরের প্রত্যাশা।