আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা সব জলমাইন অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সেখানে নতুন করে মাইন পাতা হলে তা প্রতিহত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্যাটেলাইট ও স্পেস ফোর্সের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির প্রতিটি অংশ তল্লাশি চালিয়েছে। এ অভিযানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে আবারও জলমাইন পেতে কোনো যুদ্ধজাহাজ বা নৌযান পাঠায়, তাহলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে। এ বিষয়ে মার্কিন বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান অবস্থিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতেও অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
অবরোধ কার্যকর রাখতে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিজুড়ে এক ডজনের বেশি জলমাইন পেতে রাখে বলে দাবি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মাইন অপসারণের জন্য ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামের বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজও সেখানে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
মাইন অপসারণের কাজ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই, মাত্র চার মাসের মধ্যে অভিযান সম্পন্ন করার দাবি করল যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: রয়টার্স