হাটহাজারী বন বিভাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্টেশন কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

হাটহাজারী বন বিভাগের চৌহদ্দির মধ্যে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের এক স্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফরেস্ট বিট কাম চেক স্টেশনে ঘটে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

জানা যায়, ওই দিন জব্দকৃত কাঠের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হাটহাজারী ফরেস্ট বিট কাম চেক স্টেশনে যান। সাংবাদিকদের দাবি, সেখানে উপস্থিত স্টেশন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান শুরুতেই তাদের পরিচয় ও আগমনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি জানতে চান, তারা “কোন লিস্টে আছেন” এবং কোন উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছেন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরে তিনি মন্তব্য করেন যে “এখানে অনেকেই মাসোহারা নেন, আপনারা কোন দলে আছেন”—এ ধরনের বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সাংবাদিকরা জব্দকৃত কাঠের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং অনুমতি ছাড়া অফিসে প্রবেশ ও ছবি তোলার অভিযোগ তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে স্টেশন কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে অফিসে আসতে বলা হলে তিনি উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

এ সময় সাংবাদিকরা সরকারি দপ্তরে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার ও দায়িত্বশীল তথ্য সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের আচরণ ছিল অসৌজন্যমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য অধিকার চর্চার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্য ও বক্তব্যের জন্য সাংবাদিকরা যেকোনো দপ্তরে যেতে পারেন এবং সেখানে অনুমতির বাধ্যবাধকতা নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ কাম্য নয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *