আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কেনিয়ায় ১৯১ জনকে অনাহারে রেখে হত্যার দায়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজিকে ২০০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই শিশু। অনুসারীদের সন্তানদের অনাহারে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ম্যাকেনজি ও তাঁর ২৮ সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ডায়ানা মোচাচে বলেন, অনুসারীদের না খাইয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় ম্যাকেনজিই প্রধান অপরাধী। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় শাকাহোলা বন থেকে ৪০০টিরও বেশি গণকবর ও মরদেহ উদ্ধারের পর ম্যাকেনজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত হত্যা-সংক্রান্ত অপরাধে ১০০ বছর এবং অনাহারজনিত অপরাধে আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। দুটি সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হওয়ায় তাঁর মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ২০০ বছর।
একই ঘটনায় জড়িত ম্যাকেনজির ২৮ সহযোগীকে সর্বোচ্চ ১৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে মারধরকারী প্রহরী এবং গণকবর খননে সহায়তাকারীরাও রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হলেও বিচারক মোচাচে তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আসামির সংশোধন বা অনুশোচনার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কেনিয়ায় ১৯৮৭ সালের পর থেকে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
শাকাহোলা বনের ওই ধর্মীয় গোষ্ঠী নিজেদের মতো করে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সেখানে অনাহারে মৃত্যুকে ‘যিশুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া’ হিসেবে উদযাপন করা হতো। এমনকি কেউ অনাহারে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর কেনিয়ায় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারির ঘাটতি এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি