মোঃআনজার শাহ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বীজ ২০১৮ সালেই রোপিত হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। দলটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও জনসেবাকে সংগঠনের আগামী দিনের অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
বক্তব্যের শুরুতে গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশের সাধারণ মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
হাসান আল মামুন বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল না হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হতো না। এটিই বাংলাদেশের সত্য ইতিহাস। অথচ অনেকে নানা কৌশলে সেই ইতিহাস অস্বীকার করার চেষ্টা করেন।”
তিনি জানান, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা-বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন। এর ফলে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরিতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোটামুক্ত সুযোগ পান বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বিলুপ্তির পথ তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি বলেন।
আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগের কথা তুলে ধরে হাসান আল মামুন বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ৩০টি করে মামলা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা ২০ থেকে ২২ বার হামলার শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছরে গণঅধিকার পরিষদের মতো ইতিহাস অন্য কারও নেই।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে নিজেদের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হাসান আল মামুন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন এবং পরে গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
জুলাই অভ্যুত্থানে দলটির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে লড়াই করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছে। এই লড়াইয়ে গণঅধিকার পরিষদ ছিল অন্যতম শক্তি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছি, শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি।” দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই গণঅধিকার পরিষদ আজকের রাজনৈতিক অবস্থানে এসেছে বলেও তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের শেষে হাসান আল মামুন ভবিষ্যৎ নিয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, “এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা এবং মানুষের সেবা করাই হবে গণঅধিকার পরিষদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।”
তিনি বলেন, আগামী দিনেও মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই অব্যাহত রেখে দলটি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবে। গণঅধিকার পরিষদ ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগেই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।