২০৩০ সালে দুই দফায় রমজান, বছরে ৩৬ দিন রোজা কেন

ধর্ম ডেস্ক:

ইসলামী ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে ২০৩০ সালে একটি বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। ওই বছর একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান মাস শুরু হবে। ফলে মুসলমানদের এক বছরেই দুই দফায় রোজা রাখতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট। এ কারণে প্রতি বছর রমজান আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন আগে শুরু হয়।

এই ধারাবাহিকতার ফলেই ২০৩০ সালে প্রথম রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৫ জানুয়ারি। এরপর বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর। অর্থাৎ একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

এর ফলে ওই বছর মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে প্রায় ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে আরও ছয় দিন রোজা থাকবে।

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর আবর্তনের সময়ের ওপর নির্ভরশীল। বিপরীতে ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রচক্রের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। একটি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের হওয়ায় সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন কম।

এই সময়ের ব্যবধানের কারণে রমজান প্রতিবছর প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। ফলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে রমজান বিভিন্ন ঋতুর মধ্য দিয়ে ঘুরে আসে। প্রায় ৩৩ বছর পর একই সময়ের কাছাকাছি রমজান ফিরে আসে।

এর আগে ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের পর আবার ২০৬৩ সালে এমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন। তবে বছরের কোন সময়ে রমজান পড়ছে, তার ওপর রোজার সময়ের দৈর্ঘ্যও পরিবর্তিত হয়। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় রোজার সময় তুলনামূলক কম হয়। আবার গ্রীষ্মকালে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে রোজার সময় ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় আগে থেকেই নির্ণয় করা সম্ভব। তবে অনেক মুসলিম দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনা নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে প্রচলিত চাঁদ দেখার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, আবার কিছু দেশ তারিখ নির্ধারণে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবও ব্যবহার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *