৪০০ জনের পণ্য যাচ্ছে কোথায়? কুমিল্লায় টিসিবির ট্রাকসেলে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ, দায় এড়াচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা

মোঃ আনজার শাহ:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, কম মাপে পণ্য বিতরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ৪০০ জন ভোক্তার জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন পণ্য পাচ্ছেন। ফলে বাকি পণ্য কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়েও কম মাপে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, “সর্ষের মধ্যেই ভূত” থাকায় প্রকৃত উপকারভোগীরা সঠিকভাবে পণ্য পাচ্ছেন না।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে বিজয়পুর বাজারে টিসিবির কোনো পণ্য বিক্রি হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাক অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন জানান, তিনি গত ৫ মে থেকে ছুটিতে রয়েছেন। তবে তার দায়িত্বে থাকা কার্যক্রম বর্তমানে কে পরিচালনা করছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বিষয়টি নিয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আঞ্জুমান আরা বলেন, “আমি এখনও কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। তথ্য পাওয়া মাত্র জানানো হবে।”

অন্যদিকে ট্রাকসেলের ঠিকাদার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ট্রাক কোথায় আছে, আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।” তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ডিলার তোফায়েল আহমেদ জানান, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে সড়কে যানজট থাকায় ট্রাক এখনও বিক্রয় পয়েন্টে পৌঁছাতে পারেনি।”

এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা বিচার আলামিনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই।”

টিসিবির বিতরণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমার দায়িত্ব হচ্ছে ট্রাকে মালামাল সরবরাহ ও হিসাব তদারকি করা। ট্রাক অফিসার নিয়োগ বা মাঠপর্যায়ের অন্যান্য বিষয় মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”

এদিকে ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাক অফিসার নিয়োগের পর সংশ্লিষ্টদের চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিসিবির মতো জনসেবামূলক কার্যক্রমে যদি অনিয়ম, গাফিলতি ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি চলতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *