শ্রীপুরে তিন বিয়ে, স্ত্রী-সন্তানকে বঞ্চনা ও মারধরের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সন্তানদের কোনো প্রকার অধিকার না দিয়ে সম্পত্তি বিক্রি, পরকীয়া ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম বাবুর্চি (৬০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রী মোছা. ছালমা বেগম (৫০) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৮-৩০ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ও রেজিস্ট্রি কাবিনে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ছালমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে সালাউদ্দিন ও মনির নামে দুই ছেলে এবং আফিয়া ও আফরোজা নামে দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের চার সন্তানকেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। জর্ডান প্রবাসী ছালমা বেগমের উপার্জিত অর্থেই সংসার ও সন্তানদের বড় করা হয়।

ভুক্তভোগী ছালমা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম প্রথম স্ত্রীর কোনো অনুমতি না নিয়েই পরবর্তীতে শিরিনা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। শিরিনা বেগমের সংসারে সাবিনা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানকেও তিনি কোনো অধিকার দেননি। পরবর্তীতে তিনি হেনা নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে তাকে তৃতীয় বিয়ে করেন। তৃতীয় স্ত্রী হেনার সংসারে হেমায়েত (১২) নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানদের বঞ্চিত করে বসতবাড়ির জমিজমা গোপনে বিক্রি করে তৃতীয় স্ত্রী হেনাকে নিয়ে ময়মনসিংহ এলাকায় পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি কিছু জমি বিক্রিও করে ফেলেছেন। শুধু তা-ই নয়, ছালমা বেগমের বোন বিদেশ থেকে পাঠানো ৩ লাখ টাকা এবং বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনের দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ক্রেতা নিয়ে আসেন। এতে প্রথম স্ত্রী ছালমা বেগম ও মেয়ে আফিয়া খাতুন বাধা ও প্রতিবাদ জানালে সাইফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হন। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর থেকে সাইফুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী ছালমা বেগম জানান, “ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে প্রথমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি কারও কথা না শোনায় বাধ্য হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, উক্ত ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *