এবার ইরানের পিকাক্স পর্বতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ইরানের দুর্গম পিকাক্স পর্বতে অবস্থিত পারমাণবিক গবেষণাগারে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনী অভিযান চালাতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখা। সেই লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরে যায়নি বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আজ পাঁচ মাস ধরে আমরা যুদ্ধ করছি। আপনারা জানেন, এই পাঁচ মাসে আমরা কী করেছি? তারা আর পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না—এটাই আমরা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। কারণ তারা যদি তা করতে পারে, তাহলে আপনারা সেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। ইরান হামলা চালিয়ে দেবে।”

এরপরই পিকাক্স পর্বতকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই পিকাক্স পর্বত এলাকায় অভিযান চালাতে পারি। আমাদের গোয়েন্দারা ওই এলাকার ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছেন। কারা সেখানে যাতায়াত করে, তাদের বিষয়ে আমাদের কাছে সব তথ্য রয়েছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় যাতায়াত করেন, সে সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তাদের লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইস্ফাহান প্রদেশের নাতাঞ্জ শহর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাথুরে পিকাক্স পর্বত। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর ওই পর্বতের পাদদেশে একটি ভূগর্ভস্থ গবেষণাগার নির্মাণের কাজ শুরু করে ইরান। একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ইস্ফাহান, নাতাঞ্জ ও ফার্দো থেকে পারমাণবিক প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম সেখানে স্থানান্তর শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর একটি হলো সেন্ট্রিফিউজ। গত ২১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করে, ওই গোপন গবেষণাগারে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেন্ট্রিফিউজসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম স্থানান্তর করেছে তেহরান।

গবেষণাগারটির অবস্থানের ওপর পিকাক্স পর্বতের প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট শিলার স্তর রয়েছে। ফলে সাধারণ প্রচলিত বিস্ফোরকের মাধ্যমে ওই শিলাস্তর ভেদ করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পৌঁছানো কঠিন বলে ধারণা করা হয়।

এর আগেও পিকাক্স পর্বতকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব সম্ভবত পিকাক্স পর্বতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *