স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার দেশবাসীকে সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুমোদন ছাড়া রাজপথে যে কোনো ধরনের আন্দোলন দেশের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি এই মন্তব্য করেন রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির তিন দিনব্যাপী শান্তি প্রশিক্ষণ প্রবক্তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে।
আমীর খসরু বলেন, “দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনায় যত বেশি সময় নষ্ট হবে, ততই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে। রাজপথে সংঘর্ষ, আন্দোলন ও উত্তেজনার সময় শেষ। এখন সময় এসেছে জনগণের মালিকানা ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশের বিভক্তি, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশ্বাসী নয়, দেশের জনগণকে ক্ষমতায়ন করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা দলটির লক্ষ্য। “রাষ্ট্রকে প্রতিটি নাগরিককে সক্ষম করার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে—চাই তা আর্থিক হোক, নৈতিক হোক বা মানবিক হোক,” যোগ করেন তিনি।
বিএনপি নেতা বলেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে যেসব কার্যক্রম প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দান-অনুদান বা সাময়িক সহায়তা নয়, নাগরিককে সক্ষম করাই আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। এছাড়া বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতেও বিশ্বাসী।”
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দেশের রাজনীতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ নির্বাচন ও নির্বাচিত প্রতিনিধির ম্যান্ডেটের সম্মান অপরিহার্য। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব এখন নির্বাচিত প্রতিনিধির।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দেশের সব নাগরিক, বিশেষ করে প্রতিবন্ধীরা যেন নিজেদের অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করবে। নাগরিক যেন আর্থিক, নৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ কয়েক দফা দাবির জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ আগামী ১৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাজপথে কর্মসূচি গ্রহণ করবে।