কলমাকান্দা কিতাব আলীর দাপটে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ: মামলা–হুমকি–হিংসার ছায়া

নাছিমা খাতুন সুলতানা: 

নেত্রকোনা জেলা কলমাকান্দা উপজেলার কলমাকান্দা ইউনিয়নের বামনী গ্রামে এলাকার মৃত কাবিল তাং-এর ছেলে মোঃ কিতাব আলীর দাপটে গ্রামীণ সাধারণ মানুষ এখন অতিষ্ঠ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিতাব আলী পরিকল্পিতভাবে গ্রামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং রোজ শুক্রবার, একই গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আঃ আওয়াল ক্রয়কৃত জমিতে গেলে তারই চাচা কিতাব আলী তার লোকজন নিয়ে দেশী অস্ত্রসহ আক্রমণ চালান। এ ঘটনায় আঃ আওয়াল ও তার পরিবারসহ মহিলা সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আঃ আওয়াল বিজ্ঞ আমলী আদালত কলমাকান্দা-তে কিতাব আলীসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে কোর্টে চলমান। তবে, স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কিতাব আলী ও তার সহকর্মীরা প্রায় একের পর এক ৬/৮টি মামলা দিয়ে আঃ আওয়াল ও জমির মালিক মোঃ বাবুল মিয়াকে হয়রানি করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠন সরজমিনে এসে ঘটনা খতিয়ে দেখতে গেলে কিতাব আলীকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। সূত্র জানাচ্ছে, তিনি বর্তমানে গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন। তার পেশা হয়ে উঠেছে মামলা বাজি ও হয়রানি, যা গ্রামের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, কিতাব আলী তাদের জীবন নিরাপত্তার জন্য হুমকি দিচ্ছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি এমনকি জোরপূর্বক জমি দখল এবং পয়দা লুটের কাজে জড়িত। আঃ আওয়াল ও মোঃ বাবুল মিয়া সহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা আশা করছেন, জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপার দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ভুক্তভোগীরা বলেন, “যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মুখে।”

গ্রামের সাধারণ মানুষও অভিযোগ করছেন, কিতাব আলীর দাপট, মামলা-হুমকি ও সহিংস আচরণ এলাকায় স্থায়ী আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিত্যদিনের কাজে আতঙ্কিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিতাব আলী শুধু ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে নয়, বরং মামলা-হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকার মানুষের উপর দমন চাপ সৃষ্টি করছেন। গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং সাধারণ জীবনে এই ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, কিতাব আলীর এই দাপট ও মামলা-হুমকি চলতে থাকলে গ্রামে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ বলছেন, কিতাব আলীকে যদি আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তার প্রভাব গ্রামীণ সমাজে দীর্ঘমেয়াদি আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, মামলার প্রকৃত হিসাব-নিকাশ ও সত্য উদঘাটনের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও প্রশাসনের সরজমিন তদন্ত অপরিহার্য।

ভুক্তভোগী মোঃ বাবুল মিয়া ও তার পরিবার বলছেন, “আমরা শুধু আমাদের নিরাপত্তা চাই। আমাদের সঙ্গে যারা অন্যায় করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা চাই না যে, সাধারণ মানুষ যেন কিতাব আলীর ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হয়।”

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, কিতাব আলী গ্রামে পয়দা লুট ও জমি দখলকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। তিনি মামলার ছত্রছায়ায় গ্রামীণ মানুষকে হয়রানি করছেন এবং স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। না হলে গ্রামের নিরীহ মানুষদের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *