মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা ও সাধারণ কর্মী জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন ঘিরে দলে ব্যাপক অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায় থেকে মাসুদুজ্জামান (মাসুদ) নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা জানান, বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে নেতাদের চাপে রাখা হচ্ছে। ফলে অনেকে ইচ্ছা না থাকলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
একজন সিনিয়র নেতা বলেন,
“মনে হচ্ছে এই দল করে আমরা ভুল করেছি। জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে এতদিন কাজ করেছি, অথচ এখন ফ্যাসিবাদের দালালদের হাতে মনোনয়ন তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবু দলের স্বার্থে আমরা চুপ থাকছি, কারণ মতামত দিলেই বহিষ্কারের ভয়।”
তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে— কীভাবে মাসুদুজ্জামান মনোনয়ন পেলেন? অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের প্রভাব থাকতে পারে।
অনেকের মতে, গত ১৭ বছরে বিএনপির যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, এই মনোনয়নের ঘোষণার পর সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলের জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
তারা বলেন,
“বহিষ্কারের ভয়েই অনেক নেতা মুখে রাজি থাকলেও অন্তরে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। আমরা দলের জন্য জীবনভর কাজ করেছি, অথচ এখন আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।”
অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি প্রবল ধারণা তৈরি হয়েছে যে মাসুদুজ্জামান ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। কেউ কেউ মনে করছেন, তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিএনপির অস্তিত্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
স্থানীয়রা বলেন,
“আমরা এমন একজন সংসদ সদস্য চাই, যাকে বিপদে-আপদে পাশে পাওয়া যায়। দলীয় আনুগত্যের কারণে নয়, জনগণের সেবার কারণে আমরা ভোট দিতে চাই।”
বহু নেতা অভিযোগ করেছেন যে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে উচ্চপর্যায়ের কিছু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বহিষ্কারের আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন নেতা বলেন,
“যদি দলের নীতিনির্ধারকরা ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করতেন, তাহলে আজ বিএনপির মধ্যে এমন বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হতো না। ভবিষ্যতের ভোটে সাধারণ মানুষই এই সিদ্ধান্তের জবাব দেবে।”
সারসংক্ষেপে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামানের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহিষ্কারের ভয়ে নেতারা নীরব থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।