স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি’র পাঁচ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার একটি আদালত এই আদেশ দেন। নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—কিউংজু কাং, ইয়ংকওয়ান চোই, জুয়োক ইয়াং, হিসোক কিম ও সায়েম চৌধুরী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন করার পরও চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, প্লিয়াডিস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কনসাল্টিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জুবায়ের আখতার চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এডিসি থেকে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন। তাঁর দাবি, এডিসি তাদেরকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়েও চুক্তিমতো অর্থ পরিশোধ করেনি। আদালতে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এডিসির কারণে তার প্রতিষ্ঠান এখনও প্রায় ৯০ কোটি টাকার পাওনা বকেয়া রয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, কিউংজু কাং, ইয়ংকওয়ান চোই ও জুয়োক ইয়াং গ্রেফতারি পরোয়ানার পরও জামিন নিয়ে পলাতক আছেন। এছাড়া হিসোক কিম ও সায়েম চৌধুরীও দেশের বাইরে থেকে মামলার মুখোমুখি হতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই সৌরভ দে সরকার বলেন, “এই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তা এখনও জামিন নেননি। তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
জুবায়ের আখতার চৌধুরী আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানকে চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত কাজ করানো হলেও সেগুলোর জন্যও অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। তাঁর দাবি, প্রায় ৯০ কোটি টাকার পাওনা অর্থের মধ্যে মূল চুক্তি অনুযায়ী কাজের টাকা এবং অতিরিক্ত কাজের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, “অতিপ্রয়োজনীয় কাজ করানোর পরও অর্থ না দেওয়ায় আমরা আদালতের সহায়তা নিতে বাধ্য হই। এজন্য সংশ্লিষ্ট এডিসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।”
বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য জুবায়ের আখতার চৌধুরী সিএমএম কোর্টে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে এখন আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত টাকা পাবে এবং প্রকল্পে সুষ্ঠু হিসাবরক্ষণ নিশ্চিত হবে। এডিসির কর্মকর্তারা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের বাইরে থেকে পাওনা টাকা আদায় আরও কঠিন হবে না।
মামলার নথি এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এডিসির কর্মকর্তারা আগামী দিনগুলোতে আদালতে উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন। আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় মামলায় বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, পাওনা অর্থ দ্রুত আদায়ের ক্ষেত্রে আদালত আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
পিবিআই জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তিভঙ্গ এবং অর্থ পরিশোধে দেরি হলে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মামলায় দেশের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত হচ্ছে।