নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নতুন করে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নিলেও চট্টগ্রাম ওয়াসা এখনো পরিচালিত হচ্ছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বাঁধানো ছকে। কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য প্রতি দুই বছর পর পর উচ্চতর সিলেকশন বোর্ড মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ পদ ও চেয়ারগুলো এখনো তাদের দখলে। ২০১২ সালে তৎকালীন সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল্লাহ এম.ডি হয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় যত অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ।
ছাত্রলীগ ছাড়া কোনো নিয়োগই হয়নি। তার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। অদৃশ্য একটা সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম ওয়াসাকে এখনো জিম্মি করে রেখেছে। নিজেদের পদপদবি ও আধিপত্য বিস্তার ধরে রাখার জন্য নতুন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ও লোগো দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করে ফেলেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক কমিটির দু-একজন নেতা তাতে সমর্থনও দিচ্ছে। বিগত সরকারের সুবিধা ভোগী কর্মকর্তারাই নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই উচ্চতর সিলেকশন বোর্ড মিটিং করে নিজেদের চেয়ার পাকাপোক্ত এবং বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য করার প্রায় সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ফেলেছে।
কর্মচারীরা বিভিন্ন ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করলেও চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। এইদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, কর্মচারীদের পদোন্নতি ও নিয়মিতকরণ না করে বর্তমান প্রশাসন তাড়াতাড়ি আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নতুন জনবল নিয়োগের পাঁয়তারা করছে।
কর্মচারীদের প্রাণের দাবি হলো আগে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও অস্থায়ী কর্মচারীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে স্থায়ীকরণ করে, তারপর নতুন করে জনবল নিয়োগ হোক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না।