মোঃআনজার শাহ:
বরুড়া উপজেলার পলগাছা ইউনিয়নের জসিম নারায়ণপুর গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় এক মুসলিম যুবক। বারুল গ্রামের মোহাম্মদ খোকন মিয়ার সুযোগ্য সন্তান মোহাম্মদ মাসুম আলম বুলন নিজ অর্থায়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের জন্য জমি প্রস্তুত ও বালু ভরাট করে দিয়েছেন।
পলগাছা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জসিম নারায়ণপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি উপযুক্ত শ্মশান ভূমির। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বহুদিন ধরে তারা শ্মশানের জমি প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় এগিয়ে আসেন সামাজিক দলিল লেখক মোহাম্মদ মাসুম আলম বুলন।
বারুল গ্রামের মোহাম্মদ খোকন মিয়া ও রেশমা বেগমের কৃতি সন্তান মাসুম আলম বুলন মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য হয়েও ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজ অর্থায়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের জমি বালু দিয়ে ভরাট করে ব্যবহার উপযোগী করে দিয়েছেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বিমল চন্দ্র আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের শ্মশান বহুদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। জমি প্রস্তুত করার অর্থ না থাকায় কোনো নির্মাণ কাজ করতে পারছিলাম না। মাসুম আলম বুলন মুসলিম পরিবারের সন্তান হয়েও আমাদের এই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নিজ অর্থায়নে শ্মশানের জমি বালু দিয়ে ভরাট করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমরা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে ভালো রাখেন।”
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন মহলে মোহাম্মদ মাসুম আলম বুলনের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করা হচ্ছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মাসুম আলম বুলন পেশায় একজন দলিল লেখক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। তার এই মহৎ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, মানবিকতা ও সহমর্মিতার কোনো ধর্মীয় সীমারেখা নেই।