গাজীপুর জেলার টঙ্গী বাজারে আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় আবাসিক হোটেল রাজমহলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া ও নারী দেহ ব্যবসার মিনি পতিতালয়

স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:

গাজীপুর জেলার টঙ্গী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে আবাসিক হোটেল “রাজমহল”-কে কেন্দ্র করে। এলাকাবাসী ও সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটিতে মাদক সেবন, জুয়া খেলা এবং নারী দেহ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। হোটেলটি তিন তলায় বিস্তৃত, মেন রোডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই অবৈধ কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পেশাদার দালাল ও স্থানীয় যুবকরা হোটেলটির ‘মিনি পতিতালয়’ হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সূত্র জানায়, হোটেলটির কক্ষে বিভিন্ন বয়সের নারীকে বসিয়ে রেখে সরাসরি অফার দেওয়া হয়। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় একজন নারী সারারাত থাকার ব্যবস্থা করতে পারে। তবে হোটেল বা গেস্ট হাউজের ঠিকানা কার্ডে উল্লেখ করা হয় না। কার্ডে শুধুমাত্র এলাকার নাম, কখনো ‘আসার আগে ফোন দিন’ লেখা থাকে।

প্রতিবেদন অনুসারে, হোটেলটির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি ফোনে ডিরেকশন দেয়। “সোজা টঙ্গীবাজার পাম্পে আসুন,” বলার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক উপস্থিত হয়ে পথপ্রদর্শন করে। হোটেলে পৌঁছালে অন্তত ছয়-সাতজন যুবক ঘিরে ধরে তাকে ‘ভাইয়ের কাছে’ নিয়ে যায়। উপরে পৌঁছে জানা যায়, সেখানে ১৫–২০ জন বিভিন্ন বয়সী নারী বসে আছে। তারা সরাসরি বিভিন্ন ধরনের সেবা অফার করে। এই কর্মসূচি হোটেল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন চলছে।

যুবকদের কথায়, এসব কার্যক্রম “ম্যানেজ করা” থাকে। কেউ বাধা দেয় না। স্থানীয় ‘বড় ভাই’ বা নিয়ন্ত্রকরা থাকলেও তাদের নাম প্রকাশ করা হয় না। এরা মূলত দালাল হিসেবে কাজ করে, যাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের নাম কার্ডে নেই। কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, আবার প্রয়োজনে বাসায়ও সাপ্লাই পৌঁছে দেওয়া হয়।

এক যুবক জানান, কার্ড বিলির বিনিময়ে প্রতিদিন চার-পাঁচশ টাকা পর্যন্ত উপার্জন হয়। কেউ অসুবিধায় পড়লে বড় ভাইরা আশ্রয় দেন। হোটেলের কার্যক্রম পরিচালনায় নাবালকও যুক্ত, বিশেষ করে ১০–১৫ বছর বয়সী কিশোরদের ব্যবহার করা হয়। এভাবে যুবকরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে এবং কার্ড বিলি ও নারী সাপ্লাই কাজে যুক্ত হয়।

প্রতিবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় কিছু যুবক ক্ষিপ্ত হয়। তারা বলেন, “এখানে কেউ কিছু বলতে পারবে না। নির্বিঘ্নে কার্ড দিয়ে যা যা করতে চাও কর।” স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দাপট এলাকায় বেশ ভয়ঙ্কর।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হোটেল রাজমহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অবৈধ কার্যক্রমের জন্য দায়ী। তারা বলছেন, প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদক, জুয়া ও নারী দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, কেউ সরাসরি নাম প্রকাশ করতে চায় না। তবে তারা নিশ্চিত যে, এই কার্যক্রম শুধুমাত্র এক বা দুই ব্যক্তির নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক ও অপরাধ জগৎ সম্পৃক্ত।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী, টঙ্গী বাজার এলাকায় হোটেল রাজমহলের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, দালাল ও তাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নইলে স্থানীয় সমাজে মাদক, জুয়া ও নারী দেহ ব্যবসার দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে।

গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের এই হোটেল পরিস্থিতি সমাজের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *