নেত্রকোনার পূর্বধলায় নূরে আলম বাহিনীর তাণ্ডব, গ্রামের মানুষ আতঙ্কে

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ১০ নং নারান্দিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণজীবনপুর গ্রামে নূরে আলম বাহিনীর দাপটে গ্রামের সাধারণ মানুষরা তীব্র আতঙ্কে আছে। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, নূরে আলম ও তার অনুসারীদের সহিংস আচরণের কারণে গ্রামের কেউই নিরাপদ বোধ করছে না। প্রতিটি বাড়ি ও পথেই মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত কাছুম আলী খানের ছেলে মোঃ হোসেন খান পাওনা টাকা চাইতে গেলে নূরে আলমের সঙ্গে তার মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে এবং হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জের ধরে ১২ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার সকাল প্রায় ৮ টার দিকে উভয় পক্ষ দেশী অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মানুষ আহত হয়। পরবর্তীতে নূরে আলম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত, পূর্বধলা, নেত্রকোনায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সি.আর. দরখাস্ত নং ৫৮/২৫।

গ্রামবাসী অভিযোগ করছেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারা জানতে পেরেছেন, দুই গ্রাম্য শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নূরে আলম নিজে এই বৈঠকে অংশ নেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকেই সংঘর্ষের সময় বাড়িতে ছিলেন না। এমনকি কিছু ছাত্রকেও মামলা ও অভিযোগের আওতায় আনা হয়েছে, যা গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন যে, নূরে আলম এবং তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গ্রামবাসীরা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন করেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, উত্তেজিত পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উক্ত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত স্থানীয়রা হলেন: মোঃ আব্দুল মজিদ খান, মোঃ ইউনুস খান, ইউপি সদস্য মোঃ আলম খান, মোঃ হাফিজ উদ্দিন, মোঃ ফরিদ মিয়া, আল আমিন মিয়া, মোঃ রুবেল মিয়া, মোঃ সুজন মিয়া, রুকুন মিয়া, মোতালিব আকন্দ, মোঃ গফুর মিয়া, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ আমির খা, মোঃ মোতালিব মিয়া এবং আরও অনেকে।

গ্রামবাসীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং নূরে আলম বাহিনীর সহিংসতা বন্ধ করার মাধ্যমে এলাকার মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা গ্রামের মানুষদের জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *