দুঃসময়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকা ‘মৌসুমি’ দালালদের দখলে বিএনপি?

দলের চরম দুঃসময়ে যারা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেছিল, সেই সুবিধাভোগী ও কাপুরুষ দালালচক্র এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করে সংগঠনে অনুপ্রবেশ করছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দলবাজি প্রদর্শন ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন না, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন, আজ তারাই হঠাৎ করে বিএনপির লেবাস গায়ে জড়িয়ে সংগঠনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, এসব সুবিধাভোগী ও মৌসুমি অনুপ্রবেশকারীরা আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক ত্যাগের ভিত্তিতে নয়; বরং ব্যক্তিস্বার্থ ও আর্থিক সুবিধার উদ্দেশ্যে দলে ভিড়ছে। দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা অতিরিক্ত দলবাজি দেখাচ্ছে এবং প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে বিএনপির দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও আন্দোলনমুখী ভাবমূর্তি আজ চরম সংকটের মুখে।

একাধিক ত্যাগী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিল না, আজ তারাই বড় নেতা সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তুলছে, মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। এতে পুরো দল প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি সুবিধাভোগী ও দালালচক্রের অনুপ্রবেশ যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে একদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ ও নিরুৎসাহিত হন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে এসব কাপুরুষ সুবিধাভোগী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে বিএনপি একটি গুরুতর নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে নিপতিত হবে।

দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় এখনই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত— দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা, মৌসুমি অনুপ্রবেশকারী ও চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কার নিশ্চিত করা, দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা। অন্যথায়, সুবিধাভোগী দালালদের দাপটে বিএনপির রাজনীতি ও আদর্শ জনগণের কাছে সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

পরবর্তী প্রতিবেদনে নাম-পরিচয়সহ মৌসুমি সুবিধাভোগীদের দলীয় লেবাসে সংঘটিত নানা অপকর্মের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হবে—এমন গভীর অনুসন্ধানী রিপোর্ট শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *