কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবিশ আমজাদের কোটি টাকার দুর্নীতি: সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকল নবিশ আমজাদ বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই অফিসে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে আমজাদ নিজেকে কোটি টাকার মালিক করে তুলেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, আমজাদ নিজেকে সাব-রেজিস্ট্রারের “ডান হাত” হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে অতিরিক্ত ফি আদায় করতেন। জমি রেজিস্ট্রেশন, খতিয়ান সংশোধন, দলিল উত্তোলন এবং অন্যান্য কাগজপত্র সম্পাদন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ প্রভাবশালী আমজাদের কাছে বসতে বাধ্য হতেন। ঘুষ না দিলে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত।

সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আমজাদ শুধু এককভাবে নয়, বরং একটি ছোট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চালাতেন। তার সঙ্গে রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় ক্ষমতাধর কিছু কর্মকর্তার সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই কর্মকাণ্ড অবাধে চালাতে পারছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের কথা
একজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমজাদের কারণে অফিসে কাজ করা সহজ নয়। যারা মুখ খোলেন, তারা নানা সমস্যায় পড়েন। ঘুষ ছাড়া কোন কাজ এগোয় না।” অন্য ভুক্তভোগী জানান, “আমজাদ শুধু টাকা নিচ্ছেন না, তিনি মানুষকে ভয় দেখিয়ে কাজ করান। সাধারণ মানুষ সবসময় তার শিকার হচ্ছে।”

দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি
সচেতন মহল মনে করছেন, এই অনিয়মের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপর হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের ফলে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার হরণ হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নীরবতা
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, জেলা প্রশাসন ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনিয়মের বিষয়ে নজর রাখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে আমজাদের কৃতকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে।

আমজাদের বক্তব্য নেই
আমজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি এ পর্যন্ত কোনো গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হননি।

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুদক দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলমান ঘুষ ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *