মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তিনি প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনাও করেন।
কবর জিয়ারত শেষে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও একজন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা কখনো শেষ হয়ে যায় না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমার সেই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা থেকেই আজ এখানে এসেছি। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়া যখন সুস্থ ছিলেন, তখন তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন— ‘আমার তৈমূর কোথায়? তাকে কেন বহিষ্কার করা হলো?’ যদি তিনি সত্যিই এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে আইনগতভাবেও আমার বহিষ্কার টিকে থাকার কথা নয়। আমি যেখানেই থাকি, যে অবস্থায় থাকি— দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমি অতীতেও বিএনপি ও জনগণের সঙ্গে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মার্কায় ভোট দেব।”
এর আগে সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে গাড়িবহর নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে জিয়া উদ্যানে আসেন তৈমূর আলম খন্দকার। কবর জিয়ারত শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন তিনি।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এ সময় খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বিএনপির ঐক্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।