স্টাফ রিপোর্টার:
গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকার চাল ও আটা বিতরণের সরকারি উদ্যোগ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সাপোর্ট) আজকাল বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওএমএসের এআরও চিন্তামণি তালুকদার সরকারি এই সেবা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি করছেন এবং গরিব মানুষের পক্ষে পণ্য পৌঁছানোকে বাধাগ্রস্ত করছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওএমএসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক বিক্রি এবং আটা বিতরণের মাধ্যমে দরিদ্রদের সহায়তা করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং দুঃস্থ ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, তালুকদার ডিলারদের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ঘুষ নিয়ে চাল ও আটা বিক্রির নিয়ম অমান্য করছেন। আগের সময়ে, কোন পয়েন্টে ট্রাক বিক্রি হবে তার তালিকা সরকারী ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো, যা জনগণ সহজে জানতে পারতো। কিন্তু বর্তমানে সেই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে দরিদ্র মানুষরা জানতেই পারছে না কোন পয়েন্টে পণ্য বিক্রি হবে।
একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুঃস্থ দুঃস্থ ডিলার অভিযোগ করেছেন, “এআরও চিন্তামণি তালুকদার আমাদের থেকে কালকে মোট পাঁচ হাজার টাকা নিতে বলছে। আমরা ভাবছি এই টাকা কোথা থেকে দেব যদি কাল আবার বিক্রি না হয়।” একইসঙ্গে ডিলারের অভিযোগ, চিন্তামণি তালুকদার ‘ডি টু ডিলার আইজি’ ব্যবহার করে চাল গরিব মানুষের কাছে বিক্রি না করে শুধু আটা বিক্রি করছেন এবং চাল বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য—দরিদ্রদের সহায়তা—প্রায় বিপন্ন হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে সূত্র জানিয়েছে, চিন্তামণি তালুকদারের এই আচরণে কিছু চক্র গঠন হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট ডিলারদের পক্ষপাতদুষ্টভাবে চাল ও আটা বিক্রির অনুমতি দিচ্ছেন এবং যারা ঘুষ দিতে অস্বীকার করছেন, তাদের পণ্য সরবরাহে বাধা দিচ্ছেন। এতে গরিব মানুষরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি ওএমএস প্রকল্পের পণ্য বিক্রির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পয়েন্টে পণ্য বিক্রির আগে তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এতে সাধারণ মানুষ জানতে পারবে, কোন স্থানে ট্রাক বা আটা পৌঁছেছে। কিন্তু বর্তমানে তালিকা প্রকাশ না হওয়ার ফলে পণ্যের সঠিক বিতরণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দেখা দিচ্ছে এবং প্রান্তিক মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দুঃস্থ ভোক্তা অভিযোগ করেছেন, তারা সরকারি পণ্যের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছেন না। এতে তাদের জীবনযাত্রা আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। “আমরা যা কিছু সহ্য করি, তা ঠিক আছে, কিন্তু এই টাকা ও ঘুষের কারণে সরকারি চাল ও আটা আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, এটি বড় ধরনের অন্যায়,”—বলেছেন একজন ভোক্তা।
এই অভিযোগ উত্থাপনের পরও ওএমএস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত চিন্তামণি তালুকদারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা এই দুর্নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে যদি এ ধরনের দুর্নীতি unchecked থাকে, তবে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—দরিদ্রদের সহায়তা—পরিপূর্ণভাবে কার্যকর হবে না। তাদের মতে, সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এবং প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা।
গরিব মানুষ ও দুঃস্থ ডিলাররা আশা করছেন, সরকারের নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের পাওনা চাল ও আটা তাদের হাতে পৌঁছবে এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে।