গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আলাদিনের চেরাগেই আবুল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা ও ছেলে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গায়েবী টাকায় ৬ তলা ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি ও বেনামে জমিসহ কি নেই, তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে ভূমি কমিশনার রাশেদ হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ৭শতাংশ জমির উপর ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা প্ল্যানবহির্ভূত।
রাশেদ হোসেন বর্তমানে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তার পিতা আবুল হোসেন জন্মস্থান ও বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল গ্রামে। ঐ গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। কিন্তু আবুল হোসেন পিতা ইসহাক মিয়া গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ৬১ নং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। এই বিষয়ে একাধিক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, রাশেদ হোসেনের পিতা আবুল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কিনা তারা তাকে ভালোভাবে চিনেন না।
অথচ মুক্তিযোদ্ধার কোটায় এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সুপারিশে বিগত ২০২১ সালে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে রাশেদ হোসেনের চাকরি হয়েছে। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেনের পিতা আবুল হোসেন জানান, “আমার ছেলের চাকরীর জন্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সুপারিশ করেছেন বলেই আজ আমার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট।” যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশেদ হোসেন চাকরীতে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন। আবার এই অবৈধ টাকায় বানিয়েছেন বিশাল ৬ তলা বাড়ি, নামে-বেনামে কিনেছেন একাধিক জমি, রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। এছাড়া জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন অন্যের জমি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সফিপুর এলাকায় পরিচিতি বিস্তার করায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
তারই আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়হানের দুই শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রাশেদ হোসেন ও তার পিতা আবুল হোসেন গড়ে তুলেছেন বাড়ি। এইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, জালিয়াতি, হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় ভুক্তভোগী। আবুল হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, “আমি মুক্তিযোদ্ধা রায়হান ভাইয়ের জমি দখল করি নাই, তার জমি অন্য দাগে আছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খতিয়ান জালিয়াতি, টাকার বিনিময়ে মিসকেস মামলার তদন্ত রিপোর্ট নষ্ট করা হয়েছে অভিযোগ। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
জানাগেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এসিল্যান্ড অফিসে। এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে প্রতিনিয়ত হয়রানি, দুর্নীতি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। সেখানে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এমনমাত্রায় পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে। জাল দলিলে জমির নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে। নামজারি ও খারিজসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এসিল্যান্ড অফিসে যেন দেখার কেউ নেই।

এদিকে সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসেনের পিতার মুক্তিযোদ্ধা কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকার গেজেট অন্তর্ভুক্ত, অথচ কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “সফিপুর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা ইসহাক নামে কোন ব্যক্তিকে চিনেন না।”
অত্র এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আহাদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “এই সফিপুরে বাইরে অনেক লোকই থাকে। আমার জানামতে এই নামে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা তা বলতে পারছি না।”

সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসেনের পিতার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের পিতা ইসহাককে ঘিরে সফিপুর এলাকায় নানা গুঞ্জন লোকমুখে আছে। এরই জেরে, স্থানীয় সাংবাদিকরা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসেনের পিতা, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তাহার জন্মস্থান টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার কাশিল ইউনিয়ন ও গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের সঙ্গে ছিল। তিনি স-পরিবারে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *