ফ্যাসিবাদের গোষ্ঠী এখনও ওত পেতে আছে: ফরিদা আখতার

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “ওসমান হাদি একজন প্রার্থী ছিলেন। জয় হোক বা না হোক, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের গোষ্ঠী এখনও কোথাও না কোথাও ওত পেতে আছে। তারা সুযোগ পেলেই ফিরে আসতে চায়। আর সে কারণেই হাদিদের মতো যোদ্ধাদের বাঁচতে দিচ্ছে না।”

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় কাজীপাড়া এলাকায় গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদা আখতার বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি—মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে বলছে, এবারের নির্বাচন হবে ভিন্ন ধরনের। সবাই বুঝে-শুনে ভোট দিতে চায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে জনগণের মধ্যে গণভোট নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও কিছু বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন আছে, তবে সবাই একমত—এবারের নির্বাচন আলাদা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, নির্বাচন যেন আনন্দমুখর হয় এবং মানুষ ভয় না পেয়ে ভোট দিতে পারে। গত ১৭ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন ভোট আগেই হয়ে গেছে। এখন আমরা সেই পরিস্থিতিতে নেই। সকল ভোটারের ভোটই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হবে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরও বলেন, “প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইবেন—এটি তাদের দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচন সুষ্ঠু রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার। তবে আমি প্রার্থীদের একটি বার্তা দিতে চাই—জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালেই অর্থ হচ্ছে না যে, আপনারা পাঁচ বছর ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করতে পারবেন। এই ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকবে।”

ফরিদা আখতার বলেন, “আগামী দিনে সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো আপনাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে মত দেবে, আর ‘না’ ভোট মানে পরিবর্তন নয়। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে পরিবর্তনবিহীন অবস্থান নেওয়া সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুফতি এনামুল হক। এরপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *