স্টাফ রিপোর্টার:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমের বিভীষিকা কাটিয়ে না উঠতেই আবারো রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ জনি। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশের মাটিতে বসে বিতর্কিত ‘অনুসন্ধানী’ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত জুলকারনাইন সায়ের খান তার ফেসবুক ওয়ালে জনিকে জড়িয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পরপরই তাকে আবারো গুম করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিগত গুমের ইতিহাস: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যখন তথাকথিত ‘জঙ্গিবাদ দমনে’র নামে সাঁড়াশি অভিযান চলছিল, তখন অলিউল্লাহ জনিকে প্রথমবার গুম করা হয়। দীর্ঘদিন নিখোঁজ রাখার পর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র্যাব তাকে ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য হিসেবে জনসম্মুখে হাজির করে। ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জনি মুক্ত হয়ে তার ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং হাসিনার অনুগত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
জুলকারনাইন সায়েরের বিতর্কিত পোস্ট: গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কেরানীগঞ্জের একটি বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক প্রোফাইলে অলিউল্লাহ জনির একটি ফাইল ছবি প্রকাশ করেন। উক্ত পোস্টে তিনি জনিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে সন্দেহভাজন হিসেবে ইঙ্গিত করেন। জনির পরিবারের দাবি, এই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ সূত্র ধরেই গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জনিকে পুনরায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের আর্তনাদ: নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত জনির বিরুদ্ধে কোনো নতুন মামলা বা তাকে আদালতে সোপর্দ করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কোনো জেলখানাতেও তার খোঁজ মিলছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঠিক হাসিনা আমলের কায়দাতেই জনিকে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি: ভুক্তভোগীর পরিবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জুলকারনাইন সায়েরের দেওয়া প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই যদি জনিকে আটক করা হয়ে থাকে, তবে সেই প্রমাণ প্রকাশ্যে আনতে হবে। অন্যথায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন নিরপরাধ সাংবাদিকের জীবন বিপন্ন করার দায়ে জুলকারনাইন সায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, তথাকথিত ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার’ আড়ালে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে এভাবে জনসম্মুখে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা এক ধরনের ‘ডিজিটাল লিঞ্চিং’, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়।