নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কারে বাধা দান ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বাউশী ইউনিয়নের কান্দাপাড়া পূর্ব পাড়া গ্রামে প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিনের দাপটে গ্রামবাসী এখন চরম ভোগান্তির শিকার। চাঁদা না পেয়ে তারা সংস্কারাধীন রাস্তাটি কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দাপাড়া পূর্ব পাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কৃষকদের পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসী ও এক ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় সর্বসম্মতিক্রমে রাস্তাটি পুনর্সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়ে প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে হঠাৎ বাধার সৃষ্টি করেন মৃত আছাব উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আব্দুল শেখের ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিনসহ তাদের লোকজন।
চাঁদা দাবি ও রাস্তা কর্তন
অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজ চলাকালে গিয়াস উদ্দিন ও তার সঙ্গীরা গ্রামবাসীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গ্রামবাসী এই অন্যায্য টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা নবনির্মিত রাস্তাটি কেটে ফেলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে ঢাকা থেকে জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এলাকায় গেলে গ্রামবাসী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওবায়দুল হক, রিয়াজ উদ্দিন ও রাজদর মিয়াসহ অন্তত ২০-৩০ জন ব্যক্তি জানান, এই প্রভাবশালী চক্রটির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি হয়ে আছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এ ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মানিক মিয়া বাদী হয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গ্রামবাসীর পক্ষে মো. লিটন মিয়া, রুহুল আমিন, ফারুক মিয়া ও মহসিন মিয়াসহ অনেকেই স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।