মোঃ মোনায়েম খান:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ ৩০শে জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হয়েছে। সমাপনী দিনে টিএসসি প্রাঙ্গণে দেশের বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকারদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গুণীজন সম্মাননা ও উপস্থিতি
চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ গুণী শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা গ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা। এছাড়াও চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের আরও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজনের আমেজ বাড়িয়ে তোলেন।
উৎসবের মূল আকর্ষণ
গত চার দিন ধরে চলা এই উৎসবে টিএসসি চত্বর যেন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। এবারের উৎসবের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল:
-
শতাধিক স্টল: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ১০০টিরও বেশি স্টল এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি স্টলের ছিল ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় নাম।
-
পিঠার সমাহার: বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুধচিতই, পাটিসাপটা, ভাপা থেকে শুরু করে বিলুপ্তপ্রায় অনেক পদের পিঠা প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: হারানো দিনের গান
উৎসবের সমাপনী দিনে টিএসসি মোড়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘হারানো দিনের ছবির গান’। দেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীরা পুরনো দিনের জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্র সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের স্মৃতিকাতর করে তোলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা শিল্প এবং চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের গান পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশাল আয়োজন করা হয়েছিল। ক্রেস্ট প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রাত পর্যন্ত চলা এই উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।