স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মাহমুদপুর এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আইন ও ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় মাহমুদপুরের জনৈক শফিক ও তার সহযোগীরা কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে করে ওই এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাস্থলের বিবরণ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাহমুদপুর এলাকার তাজউদ্দীন মার্কেট সংলগ্ন দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার ঠিক বিপরীত পাশে একটি বড় পরিসরের ভবনের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নির্মাণাধীন ভবনটির কোনো বৈধ রাজউক অনুমোদন নেই। এমনকি ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে দুই ভবনের মধ্যবর্তী প্রয়োজনীয় জায়গা (সেটব্যাক) ছাড়া হয়নি এবং রাস্তার জন্য নির্ধারিত জমিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোন দেশে বসবাস করছি? যেখানে রাজউকের কঠোর নিয়ম থাকার কথা, সেখানে এই ‘শফিক বাহিনী’ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিশাল ভবন গড়ে তুলছে। এদের ক্ষমতার দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এই সরু রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার কোনো জায়গা থাকবে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
রাজউকের নিয়ম ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ভবন নির্মাণের আগে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র এবং অনুমোদিত নকশা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রাস্তার প্রশস্ততা অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন নির্ধারিত হয়। কিন্তু মাহমুদপুরের এই নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রে এসব আইনি প্রক্রিয়ার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, ফতুল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাজউক বেশ কয়েকটি অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও, এই নির্দিষ্ট ভবনটি রহস্যজনকভাবে নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই শফিক ও তার বাহিনী এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা
এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে ভবনের নকশা যাচাই করা হোক এবং নিয়ম বহির্ভূত অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক।
ফতুল্লা থানা এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু সাধারণ মানুষের বেলায় আইনের কড়াকড়ি না দেখিয়ে প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধেও যেন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। অন্যথায় অনিয়মই এই এলাকার নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে, যার চরম মূল্য দিতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে।